ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী ও বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
এদিকে বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
ভোটার তালিকায় জালিয়াতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে। রাজধানী জুড়েই দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো নয়াদিল্লি এলাকাকে একাধিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটককেন্দ্র বানিয়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কনট প্লেস ও তলস্তয় রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মোদির পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে, দিল্লিজুড়ে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি, গণগ্রেপ্তার ও গণপরিবহনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের পরও আন্দোলন থেকে পিছু হটতে নারাজ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আগামীকাল রোববার আবারও যন্তর মন্তরে যাওয়ার ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সিজেপি নেতা ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, মোদি সরকারের দমনপীড়ন ও বাধার মুখেও তাদের যাত্রা থামবে না।
সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অজিঙ্ক বলেন, ‘আমরা সবাই আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামায় নিজেদের ক্ষমতা ও গদি হারানোর ভয়ে পাচ্ছে মোদি সরকার। তবে আমরা কোনোভাবেই পিছু হটব না। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আগামীকাল আবারও আমরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে যাত্রা করব এবং সেখানেই অবস্থান নেব।’
এর আগে আজ শনিবার বিমানবন্দর থেকে দলের শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পুলিশ আটক করার পর সিজেপির আন্দোলনের পরবর্তী নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কর্মসূচি বাতিল হবে না। সমর্থকদের আহ্বান জানিয়ে সিজেপির নেতৃত্ব বলেছে, ‘দিল্লি পুলিশ যেখানেই বাধা দেবে, সেখানেই যন্তর মন্তর বানিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।’
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেয় সিজেপি। তবে পুলিশের অনুমতি ও নিরাপত্তা অজুহাতে শনিবার পুরো দিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করে সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে মোদি সরকার। তা সত্ত্বেও রোববার আবারও যন্তর মন্তর অভিমুখে নতুন করে যাত্রার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।







