যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের দক্ষিণ প্রান্তে উপকূলীয় এলাকায় রকেটের বিকট শব্দ স্থানীয়দের কাছে এখন আর অচেনা নয়। ২০২৩ সাল থেকে স্পেসএক্সের স্টারশিপের বিভিন্ন প্রোটোটাইপ এ অঞ্চল থেকে ১৩ বার উড্ডয়ন করেছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শেষ হয়েছে কোনো না কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণে।
তবে এবার পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বড়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো স্টারশিপকে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করবে স্পেসএক্স। সফল হলে মহাকাশযানটি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ইন্টারনেট স্যাটেলাইটের প্রথম ব্যাচ কক্ষপথে স্থাপন করবে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার দিকে শুরু হতে পারে এই উৎক্ষেপণ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে খুলবে ৭৫ মিনিটের লঞ্চ উইন্ডো।
সিএনএন এর প্রতিবেদন সূত্রে, এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হলে স্টারশিপের জন্য এটি হতে পারে বড় এক মাইলফলক। এতদিন পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর্যায়ে থাকা এই মহাকাশযান ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারবে।
এর প্রভাব শুধু স্পেসএক্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মহাকাশভিত্তিক নানা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে স্টারশিপ। এর মাধ্যমে উন্নত স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এসব স্যাটেলাইট স্পেসএক্সের বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবসার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া কক্ষপথে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের লক্ষ্য, এসব কক্ষপথভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে বিপুল শক্তি প্রয়োজন এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল পরিচালনা করা।
স্টারশিপের পরিকল্পনা আরও উচ্চাভিলাষী। নাসার সঙ্গে স্পেসএক্সের রয়েছে বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। সেই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে স্টারশিপ ব্যবহার করে নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাপোলো কর্মসূচির পর দীর্ঘ বিরতির শেষে চাঁদে মানুষ পাঠানোর নতুন প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে, সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই মহাকাশযান।
এর বাইরে স্টারশিপকে কাজে লাগিয়ে মঙ্গলে স্বনির্ভর মানববসতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নের কথাও বলে আসছেন মাস্ক। সোমবারের উৎক্ষেপণ তাই শুধু আরেকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন নয়; স্টারশিপের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মহাকাশ শিল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকেও তাকিয়ে থাকবে পুরো বিশ্ব।







