অবলোক

বেতন-ভাতায় পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন

পড়তে ৬ মিনিট
বেতন-ভাতায় পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন

বেতন ও ভাতা পাওয়ার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা। দক্ষতার দিক থেকেও একই চিত্র। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়; সব স্তরের শিক্ষকদের মধ্যেই বেতন-ভাতা নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। গবেষকরা বলছেন, শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে না পারলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।

বেতন ও ভাতা পাওয়ার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা। দক্ষতার দিক থেকেও একই চিত্র। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়; সব স্তরের শিক্ষকদের মধ্যেই বেতন-ভাতা নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। গবেষকরা বলছেন, শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে না পারলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।

বর্তমানে দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কারিগরি, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক আছেন সাড়ে ১৩ লাখ। এর মধ্যে শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে শিক্ষক আছেন ৭ লাখের বেশি। এই স্তরের শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম। প্রতি বছরই বেতন গ্রেড বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, যে বেতন তারা পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, ‘এই বাজেটের বরাদ্দ শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি কিংবা আর্থসামাজিক উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজে লাগছে না। আর্থিক ও সামাজিক; দুই দিক থেকেই অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষকদের অবস্থান এখনো অনেক পিছিয়ে।’

মাধ্যমিক পর্যায়েও একই অবস্থা। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি সংকট চরমে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনও একেবারেই কম। এর বাইরে বিসিএসেও সবচেয়ে অবহেলিত শিক্ষা ক্যাডারের ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা। এই ক্যাডারে কর্মরতরা সরকারি কলেজে শিক্ষকতা এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেন। নির্দিষ্ট সময়ে পদোন্নতি না হওয়াসহ নানা বৈষম্যের শিকার তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিসিএসে একজন প্রশাসন, পুলিশ, ট্যাক্স বা ফরেন ক্যাডারে যোগ দিচ্ছেন, আবার একই সময়ে আরেকজন শিক্ষকতা পেশায় আসছেন। কিন্তু দুই পেশার সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত দেখা যায়। প্রশাসন বা অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ঋণ এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ নানা সুবিধা পান। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকরা অনেকটাই পিছিয়ে আছেন।’

তবে বর্তমান সরকার শিক্ষকদের এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আগামীর প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষতার দিক থেকেও দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে যোগ্য ও মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় টানতে হবে। আর এজন্য বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে এই পেশাকে আকর্ষণীয় করতে হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।